হাড়ের ক্ষয় রোধে করনীয় কী?


হাড়ের ক্ষয় রোধে করনীয় কী?



হাড় ক্ষয় রোগ এক নীরব ঘাতকের নাম।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে ।হাড় ক্ষয়  এক অবস্থা যেখানে শরীরের হাড় গুলো ঘনত্ব হারায় এবং আস্তে আস্তে ভঙ্গতে হতে শুরু করে।


হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া কে ইংরেজিতে অস্টিওপরোসিস বলা হয়।  অস্টিওপরোসিস হচ্ছে হাড়ের এমন এক ধরনের ক্ষয় রোগ  যা আপনার হাড়কে ভীষণ দুর্বল করে ফেলে, যার কারণে সামান্য আঘাতেই  ভেঙ্গে যায় বা ফেটে যায়।





 পেইজ কনটেন্ট সূচিপত্রঃ



  কারা বেশি ঝুঁকিতে 


বয়সের হিসেবে পুরুষদের তুলনায় নারীরা আগে অস্টিওপোরোসিসে ভোগেন এবং নারীদের এতে আক্রান্তের ঝুঁকেও বেশি। বিশেষ করে নারীদের মেনোপজ এর পরে তাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন নামক হরমোনের মাত্রা কমে যায়। ফলে তখন তাদের হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে ।

আবার অনেকের জিনগত বৈশিষ্ট্য,খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার উপরেও এই হাড়ের সফলতা নির্ভর করে। যেমন আফ্রিকান মানুষদের হারের গঠন প্রকৃতিগতভাবে মজবুত> সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে শ্বেতাঙ্গ ও এশিয়া অঞ্চলের মানুষ।

আবার পরিবারের অন্য সদস্যদের এই রোগ থেকে থাকলে তার পরবর্তী প্রজন্ম আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কারো যদি ধূমপান ,অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদক সেবনের মতো অভ্যাস থাকে সেটিও
অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ানোর কারণ।এই রোগটি থেকে শতভাগ সুস্থ হওয়ার ওষুধ নেই। তবে একে প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা গেলে হাড়ের খয়ের গতি কমানো সম্ভব।

লক্ষণ 

আসল বিষয় হচ্ছে আপনার অস্ট্রিওপোরোসিস আছে কিনা সেটা আগে থেকে বোঝার কোন উপায় নেই.। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাড় ভাঙলে বা ফাক্চা‌র হলে কেবল বিষয়টি সামনে আস,। প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের কোন লক্ষণ থাকে না ।কিন্তু পরিস্থিতি যখন জটিল রূপ নেয় তখন রোগীর ঘাড়ে কোমরে মেরুদন্ডে প্রতিনিয়ত ব্যথা হয়।পেশি ব্যথা করে বা বেশি দুর্বল লাগে, পাঁজরের হাড় নিচের দিকে ঝুলে পরে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমে যায় বা কুজো হয়ে যায়। কারণ হাড় ক্ষয় হওয়ার কারণে মেরুদন্ড শরীরের ভার নিতে পারেনা এজন্য মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে শরীর ঝুঁকে। আসে অনেক সময় হাড় ভেঙে যায়।

 

 হাড় ক্ষয়ের চিকিৎসা

 হার ক্ষয় এর  চিকিৎসা  রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে। কিছু সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হচ্ছে-

  •  ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি এর সম্পূরক।
  •  নারীদের হরমোন থেরাপি দেয়া হতে পারে ।
  •  শারীরিক চিকিৎসা এর মাধ্যমে পেশিকে শক্তিশালী করা হয় ।
  • হাড় ভেঙে গেলে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে ।

 প্রতিরোধ 


হাড় ক্ষয় প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধের উপর বেশি জোর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে -

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া । যেমন দুধ, দই, পনির, সবুজ শাকসবজি ,সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি। 
  • নিয়মিত ব্যায়াম, ভারবাহী ব্যায়াম ,যোগাসন ইত্যাদি  পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে ।
  • ধূমপান এবং মদ্যপান বর্জন ।
  • স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া 
  • শরীরের ওজন কমান ,ফাস্টফুড  ও চর্বি জাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলা ।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ছোট মাছ দুধ ডিম ইত্যাদি গ্রহণ করা 
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ট্যাবলেট গ্রহণ করা যেতে পারে। 
  • ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খান। 

মনে রাখবেন হাড় ক্ষয় একটি গুরুতর সমস্যা। তাই যদি আপনার হাড়ের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ফিটনেসঅরা২৪.কম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url